পোস্টগুলি

2026 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বইমেলা ২০২৬ঃ যে বই সংগ্রহে রাখতে পারেন

বইমেলায় যাই না কারন বইয়ের সাথে সেলফি তোলা লোক আর আইসক্রিম, ফুচকা-চটপটির দোকান দেখতে ইচ্ছা হয় না। কিছু বিশেষ বই সংগ্রহ করার জন্য ঠিক সাইত্রিশ মিনিট ছিলাম ঘড়ি ধরে। একটা বাদে সবগুলো পেয়েছি। উপরি হিসেবে কিশোর পাশা ইমনের "ছারপোকা" আর আখতারুজ্জামান আজাদের "মেটিকিউলাস স্যাটায়ার" বই দুটো নিয়ে এসেছি।

কেপি'র লেখা আমি এর আগে পড়িনি, তবে আগ্রহ নিয়ে তার কথা শুনি। মাঝে মধ্যে ভুল বললেও সে দলকানা লোক নয়, চিন্তাভাবনা পরিষ্কার। আখতারুজ্জামান আজাদও একই রকম চরিত্রের। মেলায় তার সাথে কথা হয়েছে, ভালো লেগেছে। কেপি যদি মেলায় থাকত তার সাথেও দু-মিনিট কথা বললে আরাম পেতাম। চারপাশে ক্রিটিকাল থিংকারের সংখ্যা কমে আসছে।

ভালো থাকুক তারার সন্তানেরা এই নক্ষত্রের নিচে।

নির্বাচন, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

২০২৬ এর সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। খোলা চোখে দেশের মানুষ বেশ উৎসাহ নিয়ে ভোট দিয়েছে এবছর। দীর্ঘ একটা সময় ধরে আওয়ামীলীগ সরকার দেশের মানুষের এই গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করতে দেয়নি। এবার উদ্দীপনাটা একটু বেশিই ছিল তাই সবার মাঝে।

যদিও শতভাগ ভোট কাস্টিং হয় না কোন নির্বাচনেই, এবারও হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রমতে প্রায় ৬০ ভাগ ভোট কাস্টিং হয়েছে। আওয়ামীলীগ এর একটা বিশাল অংশ ভোট দেয়া থেকে বিরত থেকেছে। আর যারা ভোট দিয়েছে তাদের বেশিরভাগ বিএনপি-কে ভোট দিয়েছে।

এবারের ভোটে অন্যবারের থেকে আলাদা কারন, এই ভোটের সাথে গণভোট নামক আরেকটা জিনিস যোগ করা হয়েছে। এই গণভোটে প্রায় ৮৪ টির মত ধারা ছিল। এতে হ্যাঁ/না দিতে হয়েছে ভোটারকে।

আমার কাছে পুরো বিষয়টা একটা ছেলেখেলার মত লেগেছে। যারা গণভোট দিয়েছে তাদের বেশিরভাগ পুরো ৮৪টা পয়েন্ট সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এতগুলো বিষয়ের উপর শুধুমাত্র হ্যাঁ এবং না'তে উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। 

সকল দল-মতের (Inclusive) অংশগ্রহণে যে নির্বাচনের আশা আমরা করেছিলাম সেটা না হলেও মোটামুটি মানের একটা নির্বাচন হয়েছে। গণতন্ত্র চলতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে আবার চলা শুরু করেছে। গণতন্ত্র একটা চলমান প্রক্রিয়া। সেখানে ভোটাধিকার না থাকলে সাধারণের অংশগ্রহণ থাকে না। স্বৈরতন্ত্রের শুরুটা সেখান থেকেই হয় (আওয়ামীলীগ এর শেষের ১০ বছরের শাসনামল দ্রষ্টব্য)।

ইন্টেরিম বা প্রফেসর ইউনুসের এনজিও মডেলের সরকার আমাদের এখানে কাজ করেনি। ধর্মীয় মৌলবাদ আর মব ভায়োলেন্সে অতিষ্ঠ দেশবাসী তাই এই ভোট হয়ে যাওয়াটাকে স্বাগত জানিয়েছে। অল্প কিছু নির্বাচন বাদে নির্বাচনের স্বচ্ছতা কোনকালেই এই জনপদে ঘটেনি। ২০২৬ এর এই নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে। তবে আমি এই গণতান্ত্রিক পদ্ধতি আবার শুরু হওয়ায় আনন্দিত।

জামায়েতে ইসলামি প্রকাশ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল না, ২০২৬ সালে এসেও তারা তাদের সেই অবস্থান থেকে সরে আসেনি। প্রকাশ্যে ৭১ কে অস্বীকার করা এবং ভুলভাল ইতিহাস বর্ননা করার জন্য তারা নতুন প্রজন্মের অনেককে রাস্তায় নাময়েছিল। শিক্ষিত (!) দেখতে ব্যারিস্টার ক্যাটাগরির কিছু লোককে তাদের প্রপাগন্ডার জন্য ব্যবহার করেছে। কিন্তু আদতে এতে হিতে বিপরীত হয়েছে। আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচনে তারা বিরোধী দল হতে পেরেছে এটাই বড় কথা।

বাংলাদেশের জন্মের বিরোধীতাকারী একটা দল বাংলাদেশের সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে এটাই এদের সবচেয়ে বড় পাওয়া। জামায়েতের হাতধরে এদেশে গুপ্ত রাজনীতির উত্থান ঘটেছে। এরা আরেক দলের কর্মী হিসেবে যোগদান করে আত্মপ্রকাশ করে শিবির/জামায়েত হিসেবে। নিজেরা যে সকল সেক্যুলার কাজ করতে পারবে না ধর্মভিত্তিক দল হবার কারনে সেগুলো করার জন্য এনসিপি নামক দল এবং কিছু মহিলা স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে। শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র ক্ষমতায় ভোটে আসতে পারবে না জেনে প্রচুর পরিমানে টাকা ব্যয় করেছে ভোট কেনার জন্য এবং অনেক জায়গায় টাকা সহ জামায়াতের লোকজন ধরা খেয়েছে।

অপ্রকাশ্য তথ্যমতে জামায়েতের আমীর শফিকুর রহমান নিজ আসনে জেতার জন্য প্রচুর ভোটার মাইগ্রেট করে নিজ এলাকায় এনেছিলেন। বিএনপি মূলত জিতে গেছে জামায়েতের এই সকল ৭১ বিরোধী এবং নারী বিদ্বেষী কর্মাকান্ডের জন্য। খুব অদ্ভুতভাবে ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থান হতে গিয়েও আবার থেমে গেছে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেয়ায়।

বুদ্ধিজীবী মহল বিএনপি কে অকুণ্ঠ সমর্থন না দিলেও, দৃশ্যত জামায়েতকে ত্যাগ করেছে। অল্প কিছুদিন আগেও বিএনপি এবং জামায়েত একসাথে জোটবদ্ধ ছিল আওয়ামীলীগ এর বিরুদ্ধে। দৃশ্যপটে আওয়ামীলীগ না থাকায় এরা আলাদা হয়ে সরকারি এবং বিরোধীদল সেজেছে এবার। আওয়ামীলীগ এবং জাতীয় পার্টির আমি-ডামি নির্বাচনের থেকে ২০২৬ এর নির্বাচন গুনগতভাবে তাই খুব একটা আলাদা নয়।

কথ্য ভাষায় কিছু শব্দ নতুন করে আমদানী করার চেষ্টা করা হয়েছে এই দেড় বছরে - ইনসাফ, ইনকিলাব, আজাদী - ইত্যাদি। এমন না যে এই শব্দগুলো আমরা ব্যবহার করি না। কিন্তু জোর করে ভাষায় কোন কিছু ঢোকানো বা সর্বসাধারণকে ব্যবহার করতে বলা যায় না। এই শব্দগুলো আমরা ন্যায়, বিপ্লব, স্বাধীনতা - ইত্যাদি অনুরূপ শব্দে প্রকাশ করতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করি। এইখানে একটা কালচারাল কনফ্লিক্ট ঘটানোর চেষ্টা চলেছে যেটা মাঠে মারা গেছে। নিজেদেরকে আলাদা বা এলিট শ্রেনী বোঝানোর জন্য যেমন অনেকে বাংলার সাথে ইংরেজী বলাটা রপ্ত করেছিল, এরাও তাই। নিজেদের আলাদা একটা গোষ্ঠী এবং বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ থেকে ভিন্ন প্রমানের চেষ্টা তাদের আসলে উপকারের থেকে অপকারই করেছে। সমস্যা তাদের শব্দে ছিল না, বরঞ্চ যারা এই সকল শব্দ ব্যবহার করছিল তাদের উগ্রতায় আর ব্যবহারে ছিল।

যেই জেনজিরা ৭১ এর ইতিহাস জানত না, এবার তারা সে সম্পর্কে কিছু হলেও জেনে গেছে। অদূর ভবিষ্যতে আমরা আবারও এই ধরনের বিপ্লব দেখব যদি না আমাদের সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করে আর ধর্মকে রাজনীতি থেকে আলাদা করতে পারে।

 

 ( এই লেখাটায় আমি ২০২৬ এর নির্বাচন এবং তার পূর্ববর্তী অবস্থার কিছু ইতিহাস ধরে রাখার চেষ্টা করেছি মাত্র।)

শবে বরাত এর স্মৃতি

শবে বরাতের দুই তিন দিন আগে থেকে আমাদের এলাকায় গোপনে সাজ সাজ রবে পড়ে যেত। তখন বুয়েট কোয়ার্টারে থাকতাম। এলাকার বড় ভাইয়েরা "মোররা" নামক একটা আতশবাজি বানাতো। এইটার মাথায় আগুনে দিলে সেটা রকেটের মত সামনের দিকে ছুটে যেত। এই মোররা আবার দুই প্রকার ছিল। একটা সাধারন আরেকটা অসাধারণ। অসাধারণ মোররা ছিল শক্তিশালী, আগুন দিলে উজ্জ্বল কমলা রঙের ফুলকি ছুটত। এর ট্রাভেল ডিস্টেন্স ছিল অনেক বেশি। একে আমরা ইলেক্ট্রিক মোররা বলে ডাকতাম।

মোররা বানাতে কি কি লাগত সেটা আমরা ছোটরা জানতাম না। আমরা নানারকম ফন্দিফিকির করলেও সেই কয়লা, গরুর ভুড়ির ঝিল্লি আর বারুদের পরিমান জানতাম না। আমরা আতশবাজি কিনে আনতাম চকবাজার থেকে। মাঝে মধ্যে ছোট ছোট পটকা। বড়রা যখন মোররা দিয়ে রাতের বেলা মারামারি করত আমরা সেটা উপভোগ করতাম।

মনে হয় এখনকার জেনারেশন এই আগুনের রকেটের কথা জানে না। আমি অন্তত অনেকদিন মোররা নামক জিনিসটা দেখিনি।

সবচেয়ে আনন্দের ছিল নামাজের নাম করে রাতে বাইরে থাকতে পারার ব্যপারটা। এশার পরে বাসায় গিয়ে ভরপেট গরুর মাংস দিয়ে ভাত বা রুটি ক্ষেয়েই নেমে পড়তাম হুল্লোড় করতে। একটা ছোটখাট গ্যাংয়ের মত তৈরি হয়ে যেত সে সময়।

আম্মু আর আব্বু বাসায় অনেক রাত জেগে নফল নামাজ আর কুরান পড়ত। রাতে ক্ষিদে লাগলে তাই বাসায় গিয়ে খেয়ে আবার নামতাম। এইরকম একটা স্বাধীনতা ওই বয়সে পাবার অপার্থিব একটা আনন্দ ছিল।

মসজিদে গিয়েও যে খুব একটা নামাজ পড়তাম সেটাও না। তবে সবাই মিলে আড্ডা আর ঘোরাঘুরি হত এলাকায় আর তার আশেপাশে। মাঝেমধ্যে হলের সামনে রাস্তায় আগুন জ্বালানো হত মাঝরাত্তিরের দিকে। এর তত্ত্বাবধানে অবশ্য একজন বড়ভাই উপস্থিত থাকত।


এই রাতজেগে থাকার একটা অবসম্ভাবী কারন ছিল পুরান ঢাকার দিকে যাবার জন্য। ফজরের সময় সেখানকার মসজিদগুলোতে তখন তবারক হিসেবে বিরিয়ানি দেয়া হত। আমরা কয়েকজন খুব চেষ্টা করতাম এক মসজিদ থেকে বিরিয়ানি নিয়ে আবার অন্য মসজিদে গিয়ে আরেক প্যাকেট নেয়ার জন্য। যদিও চেষ্টা সবসময় সফল হত না। কারন নামাজ প্রায় একই সময়ে শেষ হত। তবে বিরিয়ানি নিয়ে বাসায় ফিরে আসার মধ্যে একটা বিজয় ছিল।

পলাশী থেকে আজিমপুরের কবরস্থান পর্যন্ত পুরো রাস্তায় ফুটপাত জুড়ে তখন সিজনাল ফকিরেরা জায়গা দখল করে বসত। অনেক কিছু বদলে গেলেও এই ট্রেডিশন এখনও আছে সেটা গতকাল দেখলাম। কারন এই পথেই সবাই কবরস্থানে যায়।

গতকালই একজনের সাথে শবেবরাত নিয়ে কিঞ্চিত বাদানুবাদ করলাম। তার কথামতে এই রুটি-হালুয়া এইগুলা বিদাত। এইসব আনন্দ করা, রাস্তায় ঘোরাফেরা করা, কবরস্থানে যাওয়া এইগুলা করা যাবে না।

আমি অবশ্য অতশত মারপ্যাঁচে মানুষের উৎসব আটকে রাখতে চাইনা। ধর্ম এমনিতেই মানুষকে অনেক আনন্দ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। সেখানে কিছু মানুষ যদি একদিন রাতে বের হয়ে ঢাকা শহরে ঘোরাঘুরি করে, খাদ্য দ্রব্য কেনে বা সবাই মিলে আড্ডা দেয় তবে আমি কোন সমস্যা দেখি না। সব কিছুতেই ধর্মের ব্যাকরণ আর নিয়ম মেনে চললে আমাদের রোবটের মত থাকতে হবে। আমি রোবটের মত জীবন-যাপনে রাজি না। যে কোন উৎসব দেখতেই ভাল লাগে।

শবে বরাতের বন্ধুরা আর নেই। জীবনের হাঁটে সওদা করতে গিয়ে সবাই হারিয়ে গেছে। কিন্তু স্মৃতিগুলো অম্লান আছে। নতুন প্রজন্ম যদি একটা দিনকে উৎসব বানিয়ে কিছু স্মৃতি বানাতে চায়, তবে করুক। একদিন এরাও বুড়ো হয়ে যাবে। অফিসের চেয়ারে হেলান দিয়ে ডুব দেবে স্মৃতির সাগরে আর ক্ষনেক্ষনে মুচকি হাসবে।

আহা কৈশোর!  

উদরপূর্তি

সকালটা খুব সুন্দর ছিল। কুয়াশা থাকলেও মেঘ ফুড়ে সূর্যের অল্প কিছু আলো গায়ে এসে লাগছে। বাতাসের কারনে অবশ্য ঠান্ডার পরিমান কমেনি। তাপমাত্রা প্রায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মত। লং-ড্রাইভে যাওয়ার মত চমৎকার একটা সময়।

আমি অবশ্য খুব বেশি দূরে যাই না। কন্যাকে স্কুলে দিয়ে স্টারে বসে সকালের নাস্তা সারি। এদের চিকেন স্যুপ, খাসির পায়া আর অল্প তেলে ভাজা পরোটা সকালবেলা খুবই উপাদেয় লাগে। সকালবেলা স্টারে লোকজন কম থাকে। কিছু কপোত-কপোতী আর আমার মত দূর্ভাগারা যাদের নাস্তা বানিয়ে দেবার কেউ নাই তারা এখানে খেতে আসে।

স্টারে নাস্তা খেতে ঘন্টা লাগিয়ে দিলেও কেউ কিছু বলে না। আর স্টারই একমাত্র চলনসই রেস্টুরেন্ট যেখানে ভাত-ডাল পাওয়া যায়। আরাম করে বসা যায় দুপুরবেলাতেও।

আমি ভোজন রসিক মানুষ। কেউ যদি একবেলা আমাকে সুস্বাদু খাবার খাওয়ায়, আমি কৃতজ্ঞ হয়ে যাই। নিজেও মাঝে মধ্যে টুকটাক রান্নার চেষ্টা করি। শুধু ডিমভাজা না, আমি ভাত, ডাল, মাংস সবই রান্না করতে পারি। বেঁচে থাকার তাগিদে শিখতে হয়েছে। সারভাইবাল স্কিলের মধ্যে রান্না শেখা সব মানুষের কর্তব্য বলে আমি মনে করি।

সেদিন ইউটিউব থেকে একটা নতুন ডিম ভাজার রেসিপি শিখলাম। 

একটা ডিম ছোট একটা বাটিতে নিতে হবে। বড় এক চামচ মেয়োনিজ সেটাতে যোগ করতে হবে। সল্টেড না হলে ভালো। অল্প একটু ঘি বা তেল সেটার সাথে নিয়ে ভালো করে মেশাতে হবে। এরপর বাটিটা ওভেনে ৪০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের জন্য দিয়ে দিতে হবে।

ব্যাস তৈরি হয়ে যাবে অসাধারন এক অমলেট। প্রতিদিন কি আর সেই তেলেভাজা ডিম পোচ খেতে ভাল লাগে? আমি নিজে একবার এই রেসিপি ট্রাই করে দেখলাম। স্বাদ মন্দ না। হয়ত কিছু গ্রিন চিলি ছোট করে কেটে সাথে দিয়ে দিলে জিনিসটা স্পাইসি হোত।

রান্না হচ্ছে একটা ফিউশন আর্ট। একজনের রেসিপির সাথে আপনি নিজের মনের মত মশলা মেশাবেন। তাতে মাঝে মধ্যে স্বাদ বাড়বে, অথবা জিনিসটা অখাদ্য হবে। কিন্তু আপনাকে এক্সপেরিমেন্ট করতেই হবে। আমাদের জীবনটাও একই রকম। আরেকজনের রেসিপিতে আপনার চলবে না। নিজের বিচার-বুদ্ধিতে আপনাকে সেখানে মশলা মেশাতে হবে। নয়ত আপনি অন্যের মত করেই বেঁচে থাকবেন আজীবন।

এইখানে বলে রাখা ভালো, আমি জীবন থেকে একটা শিক্ষা পেয়েছি। সেটা হচ্ছে, বাসার খাবার যতই অখাদ্য হোক সেটাকে কখনো খারাপ বলা যাবে না। খাবারের বদলে বিষতো আর দিচ্ছে না! রেস্টুরেন্টের শেফ একজন প্রফেশনাল ব্যক্তি। তার হাতের কাজ আর সিজনাল শেফের কাজে তফাত থাকতেই পারে।

খাবারের কথায় আরেকটু বলি, আমি একা খেতে পছন্দ করি। এমনকি রেস্টুরেন্টেও আমি একা যেতে চাই। যদিও বেশিরভাগ সময়েই সেটা হয়ে ওঠে না। মূল কারন মনে হয়, আমি খাবার খাওয়ার সময় অহেতুক কথা বলা পছন্দ করি না সেটা। তবে সঙ্গী যদি বুদ্ধিমান হয় তবে আলোচনা চলতে পারে দর্শন, সাহিত্য কিংবা বিজ্ঞান নিয়ে। 

ভালো খাবারের মত, ভালো জ্ঞানও সহজে পাচ্য হয়। পৃথিবীর সবকিছু জানার দরকার নেই, সব বিষয়ে পন্ডিত হতে হয় না। আমি যখনই কারও সাথে নাস্তা করতে বসি তিনি রাজনৈতিক জ্ঞান কপচানো শুরু করেন যেটা আমার খুবই অপছন্দের। এই জ্ঞান আবার ফেইসবুক লব্ধ জ্ঞান। বিভিন্ন জনের মতামত থেকে সংগ্রহ করা। অনেকটা পাঁচমিশালি আঁচারের মত। সবার তৈরি আঁচার খেতে ভালো হয় না। মশলার অনুপাত সবাই বোঝে না।

খাবার সময় তাই কম কথা বলাই ভালো।