উদরপূর্তি

সকালটা খুব সুন্দর ছিল। কুয়াশা থাকলেও মেঘ ফুড়ে সূর্যের অল্প কিছু আলো গায়ে এসে লাগছে। বাতাসের কারনে অবশ্য ঠান্ডার পরিমান কমেনি। তাপমাত্রা প্রায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মত। লং-ড্রাইভে যাওয়ার মত চমৎকার একটা সময়।

আমি অবশ্য খুব বেশি দূরে যাই না। কন্যাকে স্কুলে দিয়ে স্টারে বসে সকালের নাস্তা সারি। এদের চিকেন স্যুপ, খাসির পায়া আর অল্প তেলে ভাজা পরোটা সকালবেলা খুবই উপাদেয় লাগে। সকালবেলা স্টারে লোকজন কম থাকে। কিছু কপোত-কপোতী আর আমার মত দূর্ভাগারা যাদের নাস্তা বানিয়ে দেবার কেউ নাই তারা এখানে খেতে আসে।

স্টারে নাস্তা খেতে ঘন্টা লাগিয়ে দিলেও কেউ কিছু বলে না। আর স্টারই একমাত্র চলনসই রেস্টুরেন্ট যেখানে ভাত-ডাল পাওয়া যায়। আরাম করে বসা যায় দুপুরবেলাতেও।

আমি ভোজন রসিক মানুষ। কেউ যদি একবেলা আমাকে সুস্বাদু খাবার খাওয়ায়, আমি কৃতজ্ঞ হয়ে যাই। নিজেও মাঝে মধ্যে টুকটাক রান্নার চেষ্টা করি। শুধু ডিমভাজা না, আমি ভাত, ডাল, মাংস সবই রান্না করতে পারি। বেঁচে থাকার তাগিদে শিখতে হয়েছে। সারভাইবাল স্কিলের মধ্যে রান্না শেখা সব মানুষের কর্তব্য বলে আমি মনে করি।

সেদিন ইউটিউব থেকে একটা নতুন ডিম ভাজার রেসিপি শিখলাম। 

একটা ডিম ছোট একটা বাটিতে নিতে হবে। বড় এক চামচ মেয়োনিজ সেটাতে যোগ করতে হবে। সল্টেড না হলে ভালো। অল্প একটু ঘি বা তেল সেটার সাথে নিয়ে ভালো করে মেশাতে হবে। এরপর বাটিটা ওভেনে ৪০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের জন্য দিয়ে দিতে হবে।

ব্যাস তৈরি হয়ে যাবে অসাধারন এক অমলেট। প্রতিদিন কি আর সেই তেলেভাজা ডিম পোচ খেতে ভাল লাগে? আমি নিজে একবার এই রেসিপি ট্রাই করে দেখলাম। স্বাদ মন্দ না। হয়ত কিছু গ্রিন চিলি ছোট করে কেটে সাথে দিয়ে দিলে জিনিসটা স্পাইসি হোত।

রান্না হচ্ছে একটা ফিউশন আর্ট। একজনের রেসিপির সাথে আপনি নিজের মনের মত মশলা মেশাবেন। তাতে মাঝে মধ্যে স্বাদ বাড়বে, অথবা জিনিসটা অখাদ্য হবে। কিন্তু আপনাকে এক্সপেরিমেন্ট করতেই হবে। আমাদের জীবনটাও একই রকম। আরেকজনের রেসিপিতে আপনার চলবে না। নিজের বিচার-বুদ্ধিতে আপনাকে সেখানে মশলা মেশাতে হবে। নয়ত আপনি অন্যের মত করেই বেঁচে থাকবেন আজীবন।

এইখানে বলে রাখা ভালো, আমি জীবন থেকে একটা শিক্ষা পেয়েছি। সেটা হচ্ছে, বাসার খাবার যতই অখাদ্য হোক সেটাকে কখনো খারাপ বলা যাবে না। খাবারের বদলে বিষতো আর দিচ্ছে না! রেস্টুরেন্টের শেফ একজন প্রফেশনাল ব্যক্তি। তার হাতের কাজ আর সিজনাল শেফের কাজে তফাত থাকতেই পারে।

খাবারের কথায় আরেকটু বলি, আমি একা খেতে পছন্দ করি। এমনকি রেস্টুরেন্টেও আমি একা যেতে চাই। যদিও বেশিরভাগ সময়েই সেটা হয়ে ওঠে না। মূল কারন মনে হয়, আমি খাবার খাওয়ার সময় অহেতুক কথা বলা পছন্দ করি না সেটা। তবে সঙ্গী যদি বুদ্ধিমান হয় তবে আলোচনা চলতে পারে দর্শন, সাহিত্য কিংবা বিজ্ঞান নিয়ে। 

ভালো খাবারের মত, ভালো জ্ঞানও সহজে পাচ্য হয়। পৃথিবীর সবকিছু জানার দরকার নেই, সব বিষয়ে পন্ডিত হতে হয় না। আমি যখনই কারও সাথে নাস্তা করতে বসি তিনি রাজনৈতিক জ্ঞান কপচানো শুরু করেন যেটা আমার খুবই অপছন্দের। এই জ্ঞান আবার ফেইসবুক লব্ধ জ্ঞান। বিভিন্ন জনের মতামত থেকে সংগ্রহ করা। অনেকটা পাঁচমিশালি আঁচারের মত। সবার তৈরি আঁচার খেতে ভালো হয় না। মশলার অনুপাত সবাই বোঝে না।

খাবার সময় তাই কম কথা বলাই ভালো।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন