The Wind of Change - হাওয়া বদল
সকল সাম্রাজ্যের একদিন শেষ হবে। ক্ষমতার পালাবদল হবে।
বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে দীর্ঘ পনের বছর পর। আওয়ামীলীগ আর ক্ষমতায় নেই। কিন্তু এখন দেশ কারা চালাচ্ছে সেটা বোঝাটা খুব দূরহ হয়ে গেছে। জামায়াত নাকি বিএনিপি - কে আসবে ক্ষমতায় এটা নিয়ে চলছে বিতর্ক। টকশোগুলোতে গরম গরম বক্তৃতা রেখে যাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ক্ষমতার অত গহীনের মারপ্যাঁচ বোঝাটা সাধারণের জন্য খুব কষ্টের।
ক্ষমতার শূন্যস্থান তৈরি হলে সেখানে সবসময়ই উগ্রবাদ স্থান নেয়। বাংলাদেশের বর্তমান সংবাদগুলো দেখলে অন্তত তাই মনে হচ্ছে। মাজার পোড়ানো হয়েছে, মেয়েদের ফুটবল খেলায় বাধা দেয়া হয়েছে, বাউলদের ধরে পেটানো হচ্ছে, বিরোধী মতের কাউকে পেলে জবাই করে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। একটা সভ্য সমাজ বলতে আদতে যা বোঝায় সেটার কোন অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে না।
কারো কথা ভালো লাগে না বলে তাকে স্বৈরাচার বলার একটা ট্রেন্ড চালু হয়েছে। মোদ্দা কথা চরম ডানপন্থার উত্থানের যা যা উপসর্গ তার সবকিছুই বর্তমান বাংলাদেশে বিদ্যমান।
ধর্মের নামে কারা অধর্ম চালায় সবাই তা জানে। কিন্তু মুখ ফুটে বলে না। কারন বাকস্বাধীনতার থেকে জীবন অনেক বেশি মূল্যবান। ধর্ম-ছাগলদের রোখার তাই কেউ নাই। এরা বিভিন্ন দলে ভাগে হয়ে একসময় সবাইকে আক্রমন করে বসবে। হয়ত এমন একদিন আসবে যেদিন ছবি আকাঁর জন্য বা কবিতা লেখার জন্যও ধরে ধরে সবাইকে পেটানো হবে।
ওহ... আমি মনে হয় ভুল বললাম। লেখালেখির জন্য ইতিমধ্যেই এদেশে অনেকের জীবন গেছে, বাকিরা পালিয়ে বেঁচেছে। এদেশেই কবিতা লেখার জন্য দেশান্তরি হতে হয়েছে কবিকে, ধার্মিকের কোপ খেতে হয়েছে। ছবি আঁকার জন্য কার্টুনিস্ট জেলে গেছে।
ইতিহাস তার পুনরাবৃত্তি করবে, কিন্তু এদেশের শাসকেরা সেখান থেকে শিখবে না। জ্ঞানের পরিচর্যা না করে যেখানে অন্ধবিশ্বাসকে তোষন করা হয় - সেখান থেকে বড় বড় বিপ্লবী তৈরি হবে, বিজ্ঞানী নয়।
হয়ত তিরিশ বছর পরে এই সময়টার কথা যখন কেউ পড়বে সে ভাববে দেশে তখন খুব বড় একটা সংস্কার চলছিল। ব্যপারটা আসলে সেটাও নয়। একটা গোলমাল চলছে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ঠিক করা নিয়ে, কিন্তু আমি খুব আশাবাদী যে সত্য একদিন জিতে যাবে। সত্য খুব কঠিন আর অপ্রিয় হতে পারে, কিন্তু আপনাকে শেষ পর্যন্ত তার দ্বারস্থ হতেই হবে।
বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় - ১৯৭১ কে মুছে ফেলার একটা আপ্রান চেষ্টা চলছে জেনজি প্রজন্মের হাত ধরে। ইতিহাস মুছে ফেলা না গেলেও তাকে বিকৃত করা বা তার প্রতিপক্ষ হিসেবে ২০২৪ কে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। এ চেষ্টা নতুন নয়। যদিও এটা সফল হবে না।
অশিক্ষিতের দেশে গণতন্ত্র সবসময় একটা দূর্বল শাসন ব্যবস্থা। সেই দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে সবাই বাংলাদেশকে নিয়ে খেলছে। কে যে আসল বন্ধু সেটা চেনাটাই দুষ্কর। তবুও আমাদের গণতন্ত্র আকঁড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে, খেলাফত, স্বৈরতন্ত্র কিংবা রাজতন্ত্র নয়।
আশা রাখি একদিন আবার বাউলের দেশে একতারা কথা বলবে। লালন বা নজরুলকে কেউ রবীন্দ্রনাথের বিপক্ষে দাঁড় করাবে না। মানুষ যুক্তি আর বিশ্লেষণের পথে হাঁটবে।
২৫ নভেম্বর, ২০২৫
ঢাকা ।


