বেঁচে থাকাটা বিস্ময়ের
আমার মাথার চুল পেকে যাচ্ছে। আগে অল্প ছিল এখন সেটার পরিমান বেড়ে যাচ্ছে। ছোট থাকতে চুল কিছুটা সোনালী কালচে ছিল এরপর সাদা হয়ে গেছে।
আমি খুব একটা চিন্তিত নই এই সাদা চুল নিয়ে। তবে রাস্তাঘাটে অপরিচিত বা অনেক বন্ধু আমাকে এমন ভাবে এটা মনে করিয়ে দেয় যেন আমি ব্যাপারটা জানি না। তাদের ধারনা আমি মাসে একবারও আয়না দেখি না।
চুল কালো করার নানা পন্থা থাকলেও সেগুলো ব্যবহারে আমার আলস্য এবং অনীহা রয়েছে। আমি ফিল্মের হিরো নই, কাউকে ইম্প্রেস করারও আমার দরকার হয়না। কাজেই এই বাড়তি খরচ এবং কষ্ট করার অর্থ খুঁজে পাইনা।
বয়স হয়ে যাচ্ছে। মনের না শরীরের। সেটা বুঝতে পারছি। আগের মত রিফ্লেক্স নাই। এখন বিকালে একটা ভাতঘুম দিতে পারলে ভাল লাগে। আড্ডা দেয়ার সাথী নাই।
সেদিন আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু জানাল, আমাদের স্কুলের এক ক্লাসমেট হার্ট এট্যাক করে মারা গেছে। শুনে মনটা খুব খারাপ হল। যাদের সাথে কোয়ার্টারে বড় হয়েছে ওয়ালিদ তাদের একজন। এক বাসাতে অনেকদিন ছিলাম আমি, বাপ্পি আর ওয়ালিদ। বাপ্পি আর্মিতে যোগদানের পর তার সাথে আর দেখা হয়নি। ওয়ালিদ ছেলেটা হুট করে মরে গেল। স্কুলের বন্ধুদের সাথে অনেকদিন কোন যোগাযোগ নেই। জীবনের খাতায় সফল হতে গিয়ে আমরা যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছি। এখন মনে হয় একজন একজন করে কয়েক বছর পর এরকম সংবাদ পেতে থাকব।
কালকে রাতে বেশ কয়েকবার দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙ্গেছে। সাধারনত আমি স্বপ্ন দেখি না। অথবা দেখলেও মনে রাখতে পারিনা। কিন্তু গতকালকে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ায় স্বপ্নগুলোর কথা মনে আছে। দেখলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বন্ধু একটা ক্যাফে দিয়েছে, সেখানে একটা পার্টি হচ্ছে আমাদের পরিচিত বন্ধুদের নিয়ে। খাবারগুলো খুব মজার। আবার একটু পরেই দেখলাম লম্বা হাত পা ওয়ালা তিনজন লোক আমাকে আক্রমন করল। একজনকে আমি ধরাশায়ী করতে পারলেও আরেকজন একটা খুর নিয়ে এসে আমার হাতের নিচে একটা টান দিয়েছে, ঠিক তখনই ঘুম ভেঙে গেছে।
সাধারণত খুব স্ট্রেসে থাকলে এধরনের দুঃস্বপ্ন দেখে মানুষ। মানুষের মরে যাওয়াটা খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা, বেঁচে থাকাটাই বরঞ্চ বিস্ময়কর। পৃথিবী এত এত উপকরন ছড়িয়ে রেখেছে মরে যাবার, অথচ বিস্ময়করভাবে আমরা বেঁচে আছি, বংশবৃদ্ধি করে চলেছি।
অনেকের সাথেই শেষবার দেখা হয়ে গিয়েছে। বেঁচে থাকতে আর কোনদিন দেখা হবে না। এটা ভাবতেই একটু অবাক লাগে। আমার যে সহপাঠী মারা গেছে তার সাথে বারো বছর আগে শেষবার দেখা হয়েছে। আর কোনদিন দেখা হবে না।
সেদিন আরো দুজন স্কুলের সহপাঠীর সাথে হঠাৎ দেখা হয়েছে রেস্টুরেন্টে। কে জানে আর কোনদিন দেখা হবে নাকি তাদের সাথে? মৃত্যুটাই নিশ্চিত। বেঁচে থাকার জন্য, সুখী আর অহেতুক ধনী হবার জন্য আমরা প্রানান্তকর চেষ্টায় লিপ্ত আছি। অথচ সময় ফুরিয়ে যায় খুব দ্রুত। আমাদের অভিমানের দেয়ালা ভাঙে না। আমরা সুখ খুঁজে পাই না।
ভাল থাকুক তারার সন্তানেরা এই নক্ষত্রের নিচে।
ঢাকা
২রা এপ্রিল, ২০২৬
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন