আমাদের কৈশোরের স্রষ্টার মৃত্যু

রকিব হাসান মারা গেছেন। আমাদের কৈশোরে তার ছবি দেখে আমরা তাকে চিনতাম না। তিন গোয়েন্দার বইয়ে শুধু তার নাম থাকত। নব্বই দশকের কয়েকটা প্রজন্মের কাছে তার নামটাই একটা কাল্টের মত ছিল। রকিব হাসানের নামেই যে কোন বই চলত।
২০২২ এ মারা গেলেন কাজী আনোয়ার হোসেন, তার একবছর আগে শেখ আবদুল হাকিম আর এখন রকিব হাসান। কয়েক প্রজন্মকে যারা বইপড়া শিখিয়েছিলেন তারা একে একে চলে গেছেন। আমাদের কৈশোরের সুপারহিরোরা সবাই অতীত হয়ে গেছেন। মূলত মধ্যবিত্ত বাঙালী বলতে আমরা যাদের বুঝি তাদের মানসিক বিকাশে এই তিনজনের অবদান অসীম। আমরা এখন মধ্য বয়সে আছি। আমাদের বয়স এখন চল্লিশ বা তার বেশি। বিয়ে-থা করে সবাই থিতু হয়েছে নিরামিষ জীবনে। কিন্তু যতদিন আমরা বেঁচে থাকব আর এই নামগুলো শুনব, আমরা ফিরে যাব রঙিন কৈশোরে।
আমি রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল চেনার আগে এদের চিনেছিলাম। তিন গোয়েন্দার কাল্পনিক অভিযানে কতবার নিজেকে কল্পনা করে হারিয়ে গিয়েছিলাম লস এঞ্জেলস রকি বিচে। মাসুদ রানার সাথে ঘুরে বেড়িয়েছি পৃথিবী। বুনো পশ্চিমে চালিয়েছিলাম ঘোড়া।
আমাদের সময় ইন্টারনেট ছিলো না। তথ্যের অবাধ প্রবাহ ছিলনা বলে আমাদের মনযোগ বিক্ষিপ্ত ভাবে সবকিছুতে ছড়িয়ে পড়ত না। আমাদের মনোরঞ্জনের প্রধান মাধ্যম ছিল বই। উত্তেজনা আর কল্পনার মিশেলে গড়া একটা অদ্ভুত দুনিয়া।
বর্তমানের কিশোরেরা যাদের টিকটকে নাচানাচি আর রেস্টুরেন্টে ঘুরে বেড়ানোটা নেশা, তারা আমাদের এই আবেগ বুঝতে পারবে না।
মানুষ জন্মায় আবার মরে যায়, কিন্তু কজন মানুষ ইতিহাসের অংশ হতে পারে? রকিব হাসান আপনি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবেন। স্রষ্টার মৃত্যু হয় বারবার কিন্তু তার সৃষ্টির মাঝেই তিনি বেঁচে ওঠেন আবার।